শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন
হারুন-অর-রশিদ বাবু- বিশেষ প্রতিনিধি.
রংপুরের পীরগাছায় পল্লী বিদ্যুতের এক লাইনম্যানকে দায়িত্ব পালনকালে পিটিয়ে আহত ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দাখিল করার তিন দিন পার হলেও পুলিশ এখনো মামলা রেকর্ড করেনি। উল্টো বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ‘সমঝোতার’ তোড়জোড় চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে উপজেলার কান্দি বাজার এলাকায় বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ের অভিযানে যায় রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ১০ সদস্যের একটি দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় পান দোকানী অভিযুক্ত লাভলু (৩৮)-এর উস্কানিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং লাইনম্যান রাকিবুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
আহত লাইনম্যান রাকিবুল ইসলাম জানান, “একটি পানের দোকানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় দোকানদার লাভলু উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন এবং লোক জড়ো করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর শুরু করে।” গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবুলকে উদ্ধার করে প্রথমে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়।
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর পীরগাছা জোনাল অফিসের ডিজিএম আশরাফুল ইসলাম জানান, সোমবার রাতেই থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে, কিন্তু পুলিশ তা এখনো মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, “ইউএনও দেবাশীষ বসাক তাঁর কার্যালয়ে আমাকে ডেকেছিলেন। সেখানে অফিসার ইনচার্জও ছিলেন। সমঝোতার বিষয়ে অনেক কথা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার আবারও বসার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল বলেন, “অভিযোগটি তদন্তাধীন। প্রাথমিক প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ইউএনও দপ্তরে বৈঠকটি হয়েছিল ভবিষ্যতে যাতে অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে, সেই সতর্কতার জন্য।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ বসাক জানান, দুই পক্ষের কথা শোনা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সমঝোতা না হলে তখন মামলা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, ১ নম্বর আসামি লাভলুর নেতৃত্বে ওই এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত হয়। মাদক, জুয়ার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তার হাতে। ইতিপূর্বে অবৈধ বালুর স্পট থেকে পুলিশ ও সাংবাদিক ‘ম্যানেজ’ করার নামে অর্থ উত্তোলন এবং সংবাদকর্মীদের ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত পান দোকানী লাভলু নিজেও মঙ্গলবার ইউএনও কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীকে মারধোরের বিষয়ে জানতে চাইলে, লাভলু নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি কাজে বাধা ও কর্মীকে মারধরের মতো ঘটনায় মামলা না নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলবে।